শনিবার ১৩ জুন ২০২৬
Online Edition

কেন এই আস্থার সংকট

৫ আগস্টের পর মানুষ এখন মন খুলে কথা বলছে। গণঅভ্যুত্থানের চরিত্রটাই এমন, মানুষের সাহস বেড়ে যায়। কথা তো হবেই, তবে কথার মধ্যে এখন বেশ তারতম্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জুলাইয়ের ৩৬ দিনে সবার কন্ঠে ছিল একই ভাষা এবং একই লক্ষ্য। কিন্তু যতই দিন যাচ্ছে, ততই লক্ষ্য করা যাচ্ছে গণঅভ্যুত্থানের অংশীজনদের মধ্যে ভাষা ও লক্ষ্যের পার্থক্য। এর কারণ কী? ফ্যাসিবাদী সরকারের বিদায়ের পর এখন কি রাজনৈতিক তত্ত্ব, ক্ষমতার স্বার্থ ও দলীয় বিবেচনাবোধ ক্রমেই প্রবল হয়ে উঠছে? এসবের ঊর্ধ্বে উঠেই তো ছাত্র-জনতা ও রাজনীতিবিদরা জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছিলেন। এখন দেশে এমন কি স্বর্গীয় বাতাবরণ সৃষ্টি হয়েছে যে, আমাদের নানা ঘরানার মহল তৈরি করতে গিয়ে বিবাদ-বিসংবাদে লিপ্ত হতে হবে? স্বৈরশাসক বিদায় নিলেও তার দোসররা তো দেশে বর্তমান রয়েছে। নানা ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের আওয়াজ কি আমাদের কর্ণকুহরে প্রবেশ করছে না? অন্তর্বর্তী সরকারের কাজে শ্লথগতির তাৎপর্য উপলব্ধি করা কি খুব কঠিন? আর ভূ-রাজনীতির বাস্তবতা সম্পর্কেও সচেতন থাকা এখন খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দেশটা একটু স্থিতিশীল হোক, নির্বাচনের কাক্সিক্ষত পথে পা বাড়াক। তখন না হয় যার যার রঙে দেশটাকে রঙিন করবেন রাজনীতিকরা। এখনই ঐক্যে কেউ ভাঙ্গন ধরাবেন না।

এমন কথার কারণ রয়েছে। তরুণদের রাষ্ট্রকল্পনায় বাধা না দিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, ‘আপনারা তাদের রাষ্টকল্পনায় বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে আগামী নির্বাচনে গণঅভ্যুত্থানের মতো তরুণদের একটি ব্যালট বিপ্লব হবে। সেই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে তরুণেরা, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যে লেজিটিমেসির  (বৈধতা) কথা আপনারা বলছেন, সেখানে আপনাদের কবর রচনা করবে।’ উল্লেখ্য যে, গত শুক্রবার বিকেলে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জাতীয় নাগরিক কমিটি আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানের ১০০ দিন উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, বিভিন্ন দল টাকা ও মামলার বিনিময়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে একটা রাজনৈতিক সেটেলমেন্টে চলে গেছে। অনেক বড় বড় দল প্রতিনিয়ত আওয়ামী লীগের ব্যবসায়ী, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবীদের আড়াল করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। অভ্যুত্থানে আহতদের ‘টাকা দিয়ে পকেটস্থ’ করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের নিয়ে রাজনীতি না করতে এবং শহীদ পরিবার ও আহতদের দ্রুত পুনর্বাসন করার দাবি জানান জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক। আহ্বায়কের ক্ষোভের বিষয়টি উপলব্ধি করা যায়। আর রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে তিনি যে অভিযোগ করেছেন তা বেশ গুরুতর। এখানে আস্থার বার্তা নেই। তরুণরা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছেন। আস্থাহীনতার এই সংকটে তাদের করণীয় আছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ